• Youtube
  • google+
  • twitter
  • facebook

বরিশাল আইএইচটিতে গোপন ষড়যন্ত্র!, কার ইন্ধনে এই আন্দোলন?

বরিশাল টাইমস রিপোর্ট11:20 pm, March 22, 2018

বরিশাল ইনস্টিটিউট অব হেলথ টেকনোলজির (আইএইচটি) এক শিক্ষকের হস্তক্ষেপে সেখানকার শিক্ষায় আধুনিকতার ছোয়া সবেমাত্র লেগেছিল। সেই সাথে বন্ধ হয়ে গেছে পরীক্ষাকেন্দ্র নকল ও হোস্টেলের আসন বাণিজ্য। অবশ্য এই ভুমিকা রেখে সেই শিক্ষক তাহেরুল ইসলাম সুমন প্রশংসিত হয়েছিলেন। ওই শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ল্যাবরেটরি অনুষদের প্রভাষক তিনি। কিন্তু তার প্রশংসিত হওয়াটি অনেকেরই চক্ষুশুল হয়েছে। বিশেষ করে হোস্টেলে আসন বাণিজ্য বন্ধ ও নকলমুক্ত পরীক্ষাকে কেন্দ্র করে কারও কারও সাথে তার সাপে নেউলে সম্পর্ক তৈরি হয়েছে। যদিও সবকিছু ভুলে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানকে এগিয়ে নেয়ার প্রত্যয় নিয়ে আগাচ্ছিলেন তিনি। কিন্তু সেই শিক্ষাগুরুকে ওই প্রতিষ্ঠান থেকে তাড়াতে শুরু হয়েছে গোপন ষড়যন্ত্র। যার হাতিয়ার হিসেবে মাঠে ব্যবহৃত হচ্ছে সাধারণ শিক্ষার্থীরা।

বিশেষ একটি মহলের ইন্ধনে কতিপয় তথাকথিত ছাত্রলীগকর্মী নেপথ্যে থেকে তাকে আইএইচটি থেকে অপসারণ করতে ইতিমধ্যে মাঠে নেমেছে। যার অংশ হিসেবে বৃহস্পতিবার সেখানে নামসর্বস্ব বিক্ষোভ মিছিলও করেছে। তাদের অভিযোগ হচ্ছে শিক্ষক তাহেরুল ইসলাম সুমন অনেক মেয়ে শিক্ষার্থীকে যৌন হয়রানি করেছেন।

তাছাড়া তার মতের বাইরে যাওয়ায় সেখানকার ৮ শিক্ষার্থীকে ফেল করিয়েছেন। যদিও এসব অভিযোগের প্রেক্ষিতে তাদের কাছে কোন প্রমান নেই। ফলে প্রশ্ন উঠেছে একজন শিক্ষাগুরুর বিরুদ্ধে কেন এমন অভিযোগ উঠল। তবে এই প্রশ্নের কোন উত্তর নেই আন্দোলনকারীদের কাছে। তাছাড়া সেখানকার অধ্যাপকও বলছেন উত্থাপিত অভিযোগ ভিত্তিহীন।

এমতাবস্থায় খোঁজ-খবর নিয়ে জানা গেছে- শিক্ষক তাহেরুল ইসলাম সুমন আসলেই ষড়যন্ত্রের শিকার হচ্ছেন। সম্প্রতি প্রকাশিত ৩য় বর্ষের ফলাফলে কথিত ছাত্রলীগকর্মী ৮ শিক্ষার্থী ফেল করায় তার বিরুদ্ধে এই অভিযোগ তুলেছে। তাছাড়া পরীক্ষা চলাকালে কেন্দ্রে তাদের নকল করার ক্ষেত্রেও বাঁধা প্রদান করেছিলেন শিক্ষক তাহেরুল। যে কারণে ওই ৮ শিক্ষার্থীর ফলাফলে ফেল আসে।

তাছাড়া হোস্টেলে তাদের আসন বাণিজ্যের বিষয়টিও ওই শিক্ষকের হস্তক্ষেপে বন্ধ হয়ে যায়। মূলত এই বিষয়টিকে ভালোভাবে নিতে পারেনি সেখানকার কতিপয় শিক্ষক ও কথিত ছাত্রলীগকর্মীরা। এমতাবস্থায় এই শিক্ষক ইনস্টিটিউটে থাকলে তাদের ভবিষ্যৎ আরও বিষিয়ে উঠবে এমন ভাবনায় তাকে হঠাতে মাঠে নামে। ফেল করা শিক্ষার্থী ডেন্টাল ৩ বর্ষের রকি, নাসিম ও ফিজিওথেরাপির নাসিম ষড়যন্ত্র বাস্তবায়নে কাজ করছেন।

তবে তাদেরকে নেপথ্যে থেকে একটি বিশেষ মহল অর্থাৎ কোন এক ছাত্রলীগ নেতা ইন্ধন যোগাচ্ছেন বলে শোনা গেছে। কারণ ওই শিক্ষকের জোরালো ভুমিকার কারণে কথিত সেই ছাত্রলীগ নেতা ইনস্টিটিউট ক্যাম্পাসে আধিপত্য বিস্তার করতে পারেনি। যে কারণে ক্ষুব্ধ হয়ে তার ইশারায়ই এখন ষড়যন্ত্র চলছে।

এক্ষেত্রে শিক্ষক তাহেরুল ইসলাম সুমনের অভিব্যক্তি হচ্ছে- গত ৩ মাস আগে অনুষ্ঠিত পরীক্ষা নকলমুক্ত রাখতে ভুমিকা রেখেছিলেন। কিন্তু ওই সময় কথিত ছাত্রলীগ নেতাকর্মীরা বরিশাল মহানগর আ’লীগের এক শীর্ষ নেতার নাম ভাঙিয়ে একটি রুম দখলে নিয়ে নকল করতে চেয়েছিল। এমনকি নকল করার অনৈতিক সুবিধা দিয়ে শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে ১৫ থেকে ২০ হাজার করে টাকাও উত্তোলন করেছিল।

সেই বিষয়টি রুখে দেওয়ায় এখন তার বিরুদ্ধে যৌন হয়রানির ভেগ অভিযোগ তোলা হচ্ছে। যা আসলেই ভিত্তিহীন। একই প্রসঙ্গে আইএইচটির অধ্যাপক ডাক্তার জাফর আলী বলেন- অভিযোগের একটি অনুলিপি পেয়েছেন। কিন্তু মুলকপি দেওয়া হয়েছে মহাপরিদর্শকের কাছে। সেখান থেকে নির্দেশনা আসলে বিষয়টি সম্পর্কে বিস্তারিত বলা যাবে।

তবে শিক্ষার্থী ফেল করার বিষয়ে তাহেরের বিরুদ্ধে যে অভিযোগ তোলা হয়েছে তা প্রাথমিকভাবে ভিত্তিহীন মনে হচ্ছে। কারণ শিক্ষার্থীরা যে দুটি বিষয়ে ফেল করেছে সেই বিষয়টি অন্য দুই শিক্ষক দেখছেন। সুতরাং অভিযোগটি গুরুত্বহীন হয়ে পড়েছে।’’



লাইভ



টপ